বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন
নড়াই নদী পাবে সেতু, খুলবে নতুন সম্ভাবনার দরজা!
অনলাইন ডেস্ক
আফতাবনগর থেকে বনশ্রী যাতায়াতে প্রধান সড়ক ছাড়া কোনো বিকল্প না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নড়াই নদীর ওপর অন্তত দুটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি জানান, এই সেতুগুলো বনশ্রী ও আফতাবনগরের মধ্যে সরাসরি ও সহজ সংযোগ স্থাপন করবে।
শনিবার (১৯ জুলাই) বনশ্রী খালপাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘ময়লা পরিষ্কার ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় ডিএনসিসির সার্বিক সহায়তায় ও স্থানীয় সংগঠন সমমনা পরিষদ, বনশ্রীর উদ্যোগে।
প্রশাসক বলেন, “প্রস্তাবিত সেতুর নাম হবে ‘নড়াই সেতু’। এই খাল একসময় ছিল প্রবাহমান নড়াই নদী। আশির দশকে অবৈধ দখলের ফলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং এটিকে খালে রূপান্তর করা হয়। আমাদের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একে আবার ‘নড়াই নদী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নড়াই নদী সুরক্ষিত রাখতে পারলে ভবিষ্যতে রামপুরা থেকে শুরু করে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, বালু নদী হয়ে সদরঘাট ও মিরপুর পর্যন্ত নৌযান চলাচলের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।”
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে তিনি বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই চলবে না, অন্তত দুই-তিন বছর এর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই টেকসই সবুজ পরিবেশ গড়া সম্ভব।”
নড়াই খালে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহর আমাদের সবার—এর সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমমনা পরিষদ, বনশ্রীর সভাপতি মো. শাহবুদ্দিন শিকদার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নানজিং কমিউনিটি সেন্টার থেকে খালপাড় পর্যন্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয় এবং নানা জাতের বৃক্ষরোপণ করা হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।